ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ , ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপুরে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য, সহকর্মীদের ন্যায়বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৫-১০-১৫ ২০:২৩:৩১
দুর্গাপুরে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য, সহকর্মীদের ন্যায়বিচারের দাবি দুর্গাপুরে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য, সহকর্মীদের ন্যায়বিচারের দাবি
স্টাফ রিপোর্টারঃ 

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বারমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের জনপ্রিয় প্রধান শিক্ষক চন্দন কুমার দাস (রাখাল) (৫৭) ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেসড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচদিন নিবিড় পর্যবেক্ষনে থেকে মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চন্দন কুমার দাস পৌরশহরের আমলাপাড়া এলাকার মৃত চন্দ্র শেখর দাসের বড় ছেলে।

ওই স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০ ঘটিকার সময় ওই প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী শেলী রানী দাস স্কুলের এক শিক্ষককে মুঠোফোনে বলেন, তাঁর স্বামী অসুস্থ্য তাই দ্রুত তাঁর বাসায় চলে আসতে বলেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষক হেড স্যার অসুস্থ্য বলে তার অন্যান্য শিক্ষক বন্ধুদের নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বাসায় গেলে, হেড স্যারের স্ত্রী তাদের স্যারকে দেখতে বারণ করেন এবং তারাতারি ডাক্তারকে খবর দিতে বলেন। অথচ এলাকাবাসী এবং ওই সহকারী শিক্ষকগণ রাখাল স্যারকে হাসপাতালে নিতে চাইলে তার স্ত্রী হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতেই ডাক্তার আনতে বলেন

তখন কারো কারো এই বিষয়টি সন্দেহ হলে একপ্রকার জোর করেই ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান, তাদের প্রাণপ্রিয় স্যারের শরীর প্রায় ঠান্ডা হয়ে আসছে। ওনার হাতে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাচিহ্ন দেখতে পান। পরবর্তীতে দ্রুত অটোরিকশাযোগে তাকে দুর্গাপুর সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে দ্রুত ময়মনসিংহে নেওয়ার পরমর্শ দেন। রোগীর স্বজনরা দুপুর ১২টার দিকে এম্বুলেন্সের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নিয়ে যান। পরে ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেসড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রায় পাঁচ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষনে থেকেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি প্রধান শিক্ষকের স্বজনরা।

একাধিক এলাকাবাসীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রচন্ড বাগ-বিতন্ডতা শুনতে পাই এবং কিছু জিনিষপত্র ভাংচুরেরও শব্দ পেয়েছি। তবে মাঝে মধ্যেই তার স্ত্রী’র এমন আচরণ আমরা লক্ষ করি। যার কারনে আমরা ওইদিন রাতে ওই বাড়িতে যাইনি। পরদিন সকালে বিস্তারিত জানতে পারি।
প্রধান শিক্ষকের সহকর্মী মোজাম্মেল মাস্টার জানিয়েছেন, চন্দন স্যারকে তার বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর দেখতে পাই তার গলায় এবং বাম হাতে কোন কিছু দিয়ে কাটা হয়েছে এবং কাটার ক্ষতস্থান দিয়ে তখনো রক্ত ঝরছিলো, সেইসাথে মুখ দিয়ে গন্ধযুক্ত লালা বেরোচ্ছো।

তিনি আরও বলেন, তাদের প্রধান শিক্ষককে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনসহ চেতনানাশক কোন কিছু খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে। আমাদের স্যারকে হয়তো অজ্ঞান করার পর, নির্যাতন করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ, বারমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী, উপজেলা শিক্ষক সমিতি, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সাংবাদিকগণ, পৌরশহরের ব্যাবসায়ীগণ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ সহ ন্যায় বিচারের দাবী করেছেন। সেইসাথে দুর্গাপুরের প্রানপ্রিয় প্রধান শিক্ষক নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানিয়েছে।

উল্লেখ্য: একাধিক সুত্রে জানা গেছে, ওই প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাই টুকন চন্দ্র দাসের গত ছয় মাস আগে আকষ্মিক মৃত্যু হয়। ওই শিক্ষকের কোন সন্তানাদি না থাকায়, একমাত্র ছোট ভাইয়ের মেয়ে টুম্পা দাসকে নিজের মেয়ের মতো লালন পালন করতেন। এটি দেখেই তার স্ত্রী শেলী দাস, ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রায়ই ওই শিক্ষকের সাথে সংসারে ঝগড়া বিবাদ করতেন।


দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান প্রধান শিক্ষক চন্দন কুমার দাসের মৃত্যুর বিষয়টি  নিশ্চিত করে বলেন মরদেহটি  সিবিএমসি থেকে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে এনে রাখা হয়েছে ।এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধান শিক্ষকের সহকর্মী মোজাম্মেল মাস্টার জানিয়েছেন, চন্দন স্যারকে তার বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর দেখতে পাই তার গলায় এবং বাম হাতে কোন কিছু দিয়ে কাটা হয়েছে এবং কাটার ক্ষতস্থান দিয়ে তখনো রক্ত ঝরছিলো, সেইসাথে মুখ দিয়ে গন্ধযুক্ত লালা বেরোচ্ছো।

তিনি আরও বলেন, তাদের প্রধান শিক্ষককে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনসহ চেতনানাশক কোন কিছু খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে। আমাদের স্যারকে হয়তো অজ্ঞান করার পর, নির্যাতন করা হয়েছে।

Zছাত্র-ছাত্রী, উপজেলা শিক্ষক সমিতি, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সাংবাদিকগণ, পৌরশহরের ব্যাবসায়ীগণ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ সহ ন্যায় বিচারের দাবী করেছেন। সেইসাথে দুর্গাপুরের প্রানপ্রিয় প্রধান শিক্ষক নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানিয়েছে।

উল্লেখ্য: একাধিক সুত্রে জানা গেছে, ওই প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাই টুকন চন্দ্র দাসের গত ছয় মাস আগে আকষ্মিক মৃত্যু হয়। ওই শিক্ষকের কোন সন্তানাদি না থাকায়, একমাত্র ছোট ভাইয়ের মেয়ে টুম্পা দাসকে নিজের মেয়ের মতো লালন পালন করতেন। এটি দেখেই তার স্ত্রী শেলী দাস, ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রায়ই ওই শিক্ষকের সাথে সংসারে ঝগড়া বিবাদ করতেন।


মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল
নেত্রকোণা
০১৭১৬৪২৫৪৩৫
১৫-১০-২০২৫

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ